Monday, December 11, 2023

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন নিয়ে অগ্রগতি দেখতে চায়: মিলার

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন নিয়ে অগ্রগতি দেখতে চায়। মার্কিন রাষ্ট্রদূত আর্ল মিলার বলেছেন যে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র মিয়ানমারে  ‘সত্যিকারের অগ্রগতি’ দেখতে চায়। যাতে করে নিপীড়িত রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠী স্থায়ীভাবে তাদের জন্মভূমিতে ফিরে যেতে পারে।

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন নিয়ে অগ্রগতি দেখতে চায়। মার্কিন রাষ্ট্রদূত আর্ল মিলার বলেছেন যে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র মিয়ানমারে  ‘সত্যিকারের অগ্রগতি’ দেখতে চায়। যাতে করে নিপীড়িত রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠী স্থায়ীভাবে তাদের জন্মভূমিতে ফিরে যেতে পারে।

রাজধানীর ব্র্যাক সেন্টারে মার্কিন অর্থায়নে পরিচালিত ‘স্টেম’ শিক্ষা প্রকল্পের উদ্বোধন শেষে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, “আমরা সত্যিই কিছু লোক রোহিঙ্গাদেরকে মিয়ানমারে ফিরে যাওয়ার ক্ষেত্রে কিছুটা অগ্রগতি দেখতে চাই।” মিলার বলেন যে, সমস্ত রোহিঙ্গাদের নিরাপদ, টেকসই, মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবর্তনের জন্য মিয়ানমারকে উপযুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে এবং এই প্রত্যাবাসন ‘অবিলম্বে শুরু করা উচিত’।

মিলার “ইঙ্গিত করেন যে,” পাশের দেশে(মিয়ানমারে) কি হচ্ছে … এবং এটি কীভাবে (রোহিঙ্গা) প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়াকে প্রভাবিত করে, আমাদেরকে তা লক্ষ্য করতে হবে।” মিয়ানমারে সাম্প্রতিক সামরিক অভ্যুত্থান সম্পর্কে মন্তব্য করতে গিয়ে মার্কিন রাষ্ট্রদূত বলেন, গণতন্ত্রকে লাঞ্ছিতকারি মিয়ানমারের উপর কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপের জন্য মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সাথে যোগ দেওয়ার জন্য আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি তিনি আমন্ত্রণ জানান।

মিলার বলেন, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের আরও কড়া পদক্ষেপ নেওয়া উচিত এবং এই অঞ্চল ও বিশ্বের সংকট সমাধানে বাংলাদেশকে সহায়তা করা উচিত। বাংলাদেশ কক্সবাজার জেলায় এগার লক্ষের বেশি জোর করে বাস্তুচ্যুত হওয়া রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দিয়েছে।তাদের বেশিরভাগই মিয়ানমার সামরিক বাহিনীর নির্মম অত্যাচারের স্বীকার হয়ে জীবন বাঁচানোর তাগিদে ২৫ আগস্ট, ২০১৭ সাল থেকে সেখানে অবস্থান করছে। এটা ছিল মিয়ানমার সেনাবাহিনীর গণহত্যা যার মাধ্যমে মিয়ানমারের সেনাবাহিনী মুসলিম রোহিঙ্গা নিধনে মেতে উঠেছিল।

মিয়ানমারের নিপীড়িত নাগরিকদের জন্য বাংলাদেশের মানবিক সহায়তার প্রতি তাদের অটল সহায়তার পুনরাবৃত্তি করতে গত সপ্তাহে অস্ট্রেলিয়া ও জাপানের দূতদের সাথে মার্কিন রাষ্ট্রদূত কক্সবাজারের রোহিঙ্গা শিবির পরিদর্শন করেন।

এটি ছিল রোহিঙ্গা শিবিরে তাঁর দ্বাদশ সফর। জনাব মিলার বলেন যে, এই পরিদর্শন সফরটি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সমর্থন অব্যাহত রাখার জন্য একটি ইতিবাচক ও দৃঢ় বার্তা দিচ্ছে। “শুধুমাত্র মানবিক সহায়তার ক্ষেত্রে সমর্থন নয় .. পাশাপাশি মিয়ানমারের উপর চাপ প্রয়োগের জন্যও সমর্থন,” তিনি বলেন।

বাংলাদেশের অংশীদার দেশ হিসাবে মিলার বলেন, নতুন বাইডেন প্রশাসনের অধীনে আমেরিকা রোহিঙ্গা সঙ্কট সমাধানের চেষ্টা করছে। তিনি বলেন, নতুন মার্কিন সরকার রোহিঙ্গা সঙ্কটকে গুরুত্ব সহকারে নিয়েছে এবং মিয়ানমার তার সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে চালানো গণহত্যার ঘটনার পর্যালোচনা শুরু করেছে।

ইউএস রাষ্ট্রদূত কক্সবাজারের লক্ষ লক্ষ নিপীড়িত মিয়ানমারের নাগরিকদের আশ্রয়স্থল অত্যন্ত ঘন রোহিঙ্গা শিবিরগুলিকে কোভিড-১৯ মহামারী হতে সুরক্ষার ‘অসাধারণ’ কৃতিত্বের জন্য বাংলাদেশের স্বাস্থ্য কর্মীদের অত্যন্ত প্রশংসা করেছেন। তিনি আধুনিক ইতিহাসের কথা উল্লেখ করে বলেন, বাংলাদেশের মতো অন্য কোনও দেশ এত বড় সংখ্যক নিপীড়িত জনগোষ্ঠীর ভার নিতে সক্ষম হয় নি।

 

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Latest article